বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ, সংশোধনীতে আপত্তি ও ধারাবাহিক ওয়াকআউটের মধ্যেই সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। পাস হওয়া তিনটি বিলের মধ্যে দুটি মানবাধিকার রক্ষা এবং অন্যটি পিতা-মাতাকে আজীবন ভোগস্বত্ব বজায় রেখে সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের সুযোগ প্রদান সংক্রান্ত। জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে বিরোধীদের অনুপস্থিতি ও আপত্তির মুখেই কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) বিল ২০২৬’ বিল দুটিকে ‘দুর্বল ও দন্তহীন’ আখ্যা দিয়ে ওয়াকআউট করেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ফ্লোর নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে তৃতীয় বিল পাসের সময়ও তারা আপত্তির কথা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’-এ গুমের ঘটনার তদন্তের মূল দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। একজন উপপরিদর্শক (এসআই) বা নির্দিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা এসব মামলার তদন্ত করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশে গুমের ঘটনা সরাসরি তদন্তের একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে, যা নতুন আইনে পরিবর্তন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬’-এ আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের প্রশাসনিক ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত করা হয়েছে। বিরোধী দল ও দেশীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা শুরু থেকেই এই ধারাটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে আইনটির সমালোচনা করে আসছিল।
এছাড়া ১৮৮২ সালের পুরোনো আইন পরিবর্তন করে পাস করা হয়েছে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬’। নতুন এই আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি যদি সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (কিংবা বিপরীতভাবে) অথবা স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে কোনো সম্পত্তি দান করেন, তবে দানকারী ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার ও ভোগদখলের পূর্ণ আইনি অধিকার ধরে রাখতে পারবেন।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল’ ও ‘সম্পত্তি হস্তান্তর বিল’ পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, আর ‘গুম প্রতিরোধ বিল’ উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। উল্লেখ্য, গত ২৭ আগস্ট প্রথম উত্থাপনের সময়ও বিরোধী দল বিলগুলোর বিরোধিতা করে ওয়াকআউট করেছিল এবং পরবর্তীতে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাও বয়কট করে।







