ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদৌ জীবিত আছেন কি না এবং তাঁর কণ্ঠস্বর ‘ভয়েস ক্লোনিং’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে কি না—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট দেশ ছাড়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও শেখ হাসিনাকে সশরীরে কোনো ভিডিওর সামনে দেখা না যাওয়াতেই এই জল্পনা-কল্পনা নতুন মোড় নিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর নির্বাহী সম্পাদক অমল সরকারকে দেওয়া এক অডিও সাক্ষাৎকারে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম। তবে দীর্ঘ দিন ধরে শেখ হাসিনার বাস্তব ও স্পষ্ট ভিডিও বার্তা না পেয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ওপার থেকে অন্য কেউ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভয়েস ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে কথা বলছেন বা সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেত্রীর টানা অনুপস্থিতি এবং সশরীরে উপস্থিতি ছাড়া কেবল অডিও বার্তা ও টেক্সট ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশলই তাঁর জীবিত থাকা নিয়ে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি তিনি বেঁচে থাকেন ও সুস্থ থাকেন, তবে ভারতের মতো দেশ থেকে ভিডিও বার্তা দিতে বাধা কোথায়—এমন প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
উক্ত অডিও সাক্ষাৎকারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার বিষয়ে নানা মন্তব্য উঠে আসে। সাক্ষাৎকারে বলা হয়, দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাঁকে হত্যার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সামগ্রিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক মহলে শেখ হাসিনার শারীরিক অস্তিত্ব ও বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত হওয়াই এখন প্রধানতম আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।







