সুশাসনের জন্য সুপরিচিত ব্র্যাক ব্যাংকের বিরুদ্ধে মুনাফার তথ্য গোপন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত করার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০২৫ সালের সমন্বিত নিট মুনাফা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং চূড়ান্ত নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের হিসাবের মধ্যে প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকার বড় ধরনের গরমিল উন্মোচিত হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক ব্যাংক দাবি করে, ২০২৫ সালে তারা ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকা সমন্বিত নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭ শতাংশ বেশি। ব্যাংকের প্রচারিত এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে ব্যাংকটির ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক ধরনের ইতিবাচক বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
তবে ব্যাংকটির চূড়ান্ত নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য প্রযোজ্য প্রকৃত সমন্বিত নিট মুনাফা ছিল ১ হাজার ৮১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। মূলত নিজেদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের (যেমন: বিকাশ, ব্র্যাক ইপিএল ইত্যাদি) সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের প্রাপ্য ৪৩৪ কোটি ৬৭ লাখ টাকাও নিজেদের মুনাফা হিসেবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চাপিয়ে দিয়েছিল ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
বিষয়টি আরও রহস্যজনক রূপ নেয় যখন দেখা যায়, শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস (EPS) হিসাব করার সময় ব্যাংকটি বিজ্ঞপ্তিতে প্রচারিত ২ হাজার ২৫১ কোটি টাকার বদলে প্রতিবেদনে থাকা প্রকৃত ১ হাজার ৮১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকাই ব্যবহার করেছে। আন্তর্জাতিক হিসাবমান (IAS-33) অনুযায়ী মূল শেয়ারহোল্ডারদের প্রকৃত মুনাফা ধরে ৯ টাকা ১২ পয়সা ইপিএস হিসাব করলেও বিজ্ঞপ্তিতে কৃত্রিমভাবে মুনাফা বাড়িয়ে পারফরম্যান্স বড় করে দেখানো হয়েছে।
চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ও বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীরা ব্র্যাক ব্যাংকের এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলে অভিহিত করেছেন। তাঁদের মতে, বিনিয়োগকারীদের প্রভাবিত করতে পারফরম্যান্স ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো সিকিউরিটিজ আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।
