জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সাময়িক বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। এতে অনেক ব্যবহারকারী অ্যাপ ব্যবহার, বার্তা পাঠানো ও লগইন করতে সমস্যায় পড়েন।
সিঙ্গাপুরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে টেলিগ্রাম নিয়ে সমস্যার রিপোর্ট বাড়তে শুরু করে। ডাউনডিটেক্টরে অল্প সময়ের মধ্যেই ১ হাজার ৫০০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়ে।
সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর সিঙ্গাপুরে রিপোর্টের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজারে পৌঁছে যায়। এসব অভিযোগের মধ্যে অ্যাপ ব্যবহারে সমস্যা, মেসেজ আদান-প্রদানে বিঘ্ন এবং লগইন-সংক্রান্ত সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সময়ে এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের ব্যবহারকারীরাও টেলিগ্রামে সমস্যার কথা জানান। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকেও বিভ্রাটের রিপোর্ট পাওয়া যায়।
ভারতের ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ বার্তা পাঠানো ও গ্রহণ করতে না পারার কথা জানান। কিছু ব্যবহারকারী অ্যাকাউন্টে প্রবেশ এবং চ্যাট লোড করতেও সমস্যার মুখোমুখি হন।
মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকেও একই ধরনের সমস্যার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। তবে সব অঞ্চলে একই মাত্রায় বিভ্রাট দেখা যায়নি এবং কিছু ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে পরিষেবা স্বাভাবিকভাবেই চালু ছিল।
সিঙ্গাপুরে পরিস্থিতি পরে দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেখানে বিভ্রাটের রিপোর্ট প্রায় ৩৫০-এ নেমে আসে, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, রিপোর্টের একটি বড় অংশ ছিল টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহারের সমস্যা নিয়ে। এর বাইরে মেসেজিং এবং লগইন নিয়েও ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন।
তবে ডাউনডিটেক্টরের রিপোর্টকে সরাসরি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। এই প্ল্যাটফর্ম মূলত ব্যবহারকারীদের জমা দেওয়া সমস্যার রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য পরিষেবা বিভ্রাট শনাক্ত করে।
এখন পর্যন্ত টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে এই সাময়িক বিভ্রাটের নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ফলে এটি সার্ভার, অবকাঠামো, আঞ্চলিক সংযোগ কিংবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্বাধীন পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে, সব অঞ্চলে টেলিগ্রাম পুরোপুরি অচল হয়ে যায়নি। ফলে ঘটনাটিকে সম্পূর্ণ বৈশ্বিকভাবে টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
সিঙ্গাপুরসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ কমে আসায় পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়েছে। তবে বিভ্রাটের সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে টেলিগ্রামের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।
