রাজধানীর নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলি ক্রস কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক যৌন নিপীড়নের মারাত্মক অভিযোগ ওঠার পরও তাকে মাত্র এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করার ঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিতর্কিত এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি বিবাহিত ছাত্রীদের টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়ার সাম্প্রতিক নিয়ম ঘিরে কলেজ কর্তৃপক্ষের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক অনিমেষ সাহা কলেজটির সহকারী অধ্যাপক এবং বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনার দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে একাদশ শ্রেণির এক মুসলিম ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর গুরুতর অভিযোগ ওঠে। এর আগেও প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি তাঁর সঙ্গে বিরোধের জেরে এক নারী শিক্ষক চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নৈতিকতার প্রশ্নে এমন গুরুতর অপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক অনিমেষ সাহাকে শাস্তিস্বরূপ মাত্র এক মাসের জন্য শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির এই ভূমিকা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মনে বড় ধরনের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি কলেজটিতে একাদশ শ্রেণিতে বিবাহিত ছাত্রীদের ভর্তি না নেওয়া এবং পড়াশোনাকালীন সময়ে কোনো ছাত্রী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে বাধ্যতামূলক টিসি বা ছাড়পত্র দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।
সিরিয়াল যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রে চরম নমনীয়তা এবং অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘বিয়ে’র অপরাধে টিসি দেওয়ার কঠোর নীতিকে প্রতিষ্ঠানটির চরম নীতিহীনতা ও বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে দেখছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা।
