রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী হলিক্রস কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অনিমেষ সাহার বিরুদ্ধে একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, গর্ভধারণ এবং পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ছাত্রী বিয়ের তাগিদ দিলে তিনি অস্বীকৃতি জানান, যার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর কলেজটির অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীও মুখ খুলতে শুরু করেছেন। অভিযোগ উঠেছে, অনিমেষ সাহা দীর্ঘ দিন ধরে ক্লাসরুম ও প্রাইভেট টিউশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দ্ব্যর্থবোধক ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কৌতুক করতেন। এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ২০ বছর আগেও এই শিক্ষকের অসদাচরণের শিকার হয়েছিলেন তিনি; যার বিরুদ্ধে তৎকালীন সময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় একের পর এক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে।
অনিমেষ সাহা কলেজের বিভিন্ন ক্লাবের দায়িত্বশীল পদে থাকার সুযোগে প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়েছেন বলে জানা গেছে। এমনকি অতীতে তাঁর অনৈতিক আচরণ ও বিরোধের কারণে এক নারী শিক্ষক চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এমন গুরুতর অপরাধ ও ‘সিরিয়াল যৌন নিপীড়নে’র অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কলেজ কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত এই শিক্ষককে শাস্তিস্বরূপ মাত্র এক মাসের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার লঘু দণ্ড দিয়েছে। শিক্ষকের প্রতি কর্তৃপক্ষের এমন নমনীয় ভূমিকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, শিক্ষকের প্রতি লঘু দণ্ডের বিপরীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি পড়াশোনাকালীন বিবাহিত ছাত্রীদের ভর্তি না নেওয়া কিংবা বিয়ে করলে বাধ্যতামূলক টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়ার নিয়ম কার্যকর করেছে। একদিকে গুরুতর যৌন নিপীড়নে অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রতি সহানভূতির নীতি এবং অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রীদের বিয়ের অপরাধে টিসি দেওয়ার এই বৈষম্যমূলক আচরণকে প্রতিষ্ঠানটির চরম নীতিহীনতা হিসেবে দেখছেন সাধারণ ছাত্র-জনতা।
