ইরানের হাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানডুরিলের তৈরি একটি উন্নত সামরিক আন্ডারওয়াটার ড্রোন (স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান) আটকের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে গেছে। তেহরান ড্রোনটির প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করার সুযোগ পাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যা ওয়াশিংটনের জন্য তীব্র কৌশলগত অস্বস্তি তৈরি করেছে।
আটককৃত ড্রোনটির নাম ‘ডাইভ-এলডি’, যা মূলত দূরপাল্লার নজরদারি ও সমুদ্রতলের বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় অভিযানের জন্য তৈরি। প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যানডুরিলের দাবি অনুযায়ী, এটি প্রতিকূল পরিবেশেও টানা ১০ দিন মানুষের সরাসরি সহায়তা ছাড়াই কাজ করতে সক্ষম। ড্রোনটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র প্রযুক্তির ভাবমূর্তিতে আঘাত হানার পাশাপাশি কূটনৈতিকভাবে ওয়াশিংটনকে নিয়ে বিদ্রূপ করছে ইরান। বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানি দূতাবাসগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিয়ে ড্রোনটির ‘আনবক্সিং’ ও প্রযুক্তি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছে। অবশ্য ওয়াশিংটন ও পেন্টাগন দাবি করেছে, এটি একটি পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ মডেল ছিল এবং এতে কোনো গোপনীয় সেন্সর বা রাডার প্রযুক্তি ছিল না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটি থেকে ইরান বড় সামরিক সুবিধা না পেলেও এর হার্ডওয়্যার ও যান্ত্রিক কাঠামো বিশ্লেষণ করে তারা নিজস্ব ডুবোযানপ্রযুক্তি উন্নত করতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতাও এমন ইঙ্গিত দেয়; ২০১১ সালে মার্কিন ‘আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল’ ড্রোন আটকে পর ইরান সফলভাবে এর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পন্ন করার দাবি করেছিল।
সামগ্রিকভাবে ওয়াশিংটন ঘটনাটির গুরুত্ব কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করলেও, তেহরান এটিকে নিজেদের সামরিক সাফল্য এবং হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রমাণের বড় একটি প্রচারণামূলক সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।







