ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, ক্ষমতা দখল এবং চরমপন্থী ভাবধারা চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পবিত্র মক্কা নগরী ও কাবা শরিফে একাধিক রক্তক্ষয়ী হামলা ও অবরোধের ঘটনা ঘটেছে। মক্কা বিজয়ের (৬৩০ খ্রিষ্টাব্দ) পর থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত মূলত চারটি প্রধান সামরিক আক্রমণ ও অবরুদ্ধকরণের ঘটনা ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত।
প্রথম প্রধান অবরোধটি ঘটে ৬৮৩ খ্রিষ্টাব্দে, যখন উমাইয়া খলিফা প্রথম ইয়াজিদের অনুগত সিরীয় বাহিনী মক্কার স্বতন্ত্র শাসক আবদুল্লাহ ইবন আল-জুবায়েরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়। ওই সময় পাহাড়ের ওপর মিনজানিক (পাথর ও আগুনের গোলা নিক্ষেপক যন্ত্র) বসিয়ে কাবা শরিফ লক্ষ্য করে ক্রমাগত গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে কাবার গিলাফ সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং এর অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে খলিফা ইয়াজিদের মৃত্যুর খবরে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
এর ৯ বছর পর, ৬৯২ খ্রিষ্টাব্দে উমাইয়া খলিফা আবদুল মালিক ইবনে মারওয়ানের নির্দেশে সেনাপতি হাজ্জাজ বিন ইউসুফ দ্বিতীয়বার মক্কা অবরোধ করেন। টানা ছয় মাসের দীর্ঘ অবরুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাবা শরিফের এক পাশ ভেঙে পড়ে। এই যুদ্ধে আবদুল্লাহ ইবন আল-জুবায়ের শাহাদাত বরণ করলে মক্কায় উমাইয়া খিলাফতের একচ্ছত্র শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত কাবার পুনর্নির্মাণ করা হয়।
ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াল ও নির্মম ঘটনাটি ঘটে ৯৩০ খ্রিষ্টাব্দে, শিয়া কারামাতীয় চরমপন্থী গোষ্ঠীর নেতা আবু তাহির আল-জান্নাবির নেতৃত্বে। পবিত্র হজের দিনগুলোতে আচমকা হামলা চালিয়ে হাজার হাজার হাজিকে হত্যা করে কাবার প্রাঙ্গণে ও জমজম কূপে ফেলে দেওয়া হয়। উগ্রপন্থীরা কাবার গিলাফ ছিঁড়ে ফেলে এবং পবিত্র ‘হাজরে আসওয়াদ’ পাথরটি ভেঙে চুরি করে বাহরাইনে নিয়ে যায়, যা প্রায় ২২ বছর পর কাবা শরিফে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল।
আধুনিক যুগে ১৯৭৯ সালের ২০ নভেম্বর জুহাইমান আল-ওতৈবির নেতৃত্বে ‘আল-জামাআ আল-সালাফিয়া আল-মুহতাসিবা’ নামক একটি কট্টরপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী মসজিদুল হারাম দখল করে নেয়। সৌদি রাজপরিবার উৎখাত ও তথাকথিত ‘ইমাম মাহদি’র আগমন ঘোষণার উদ্দেশ্যে পরিচালিত এই হামলায় শত শত মুসল্লি জিম্মি হন এবং টানা দুই সপ্তাহ কাবার তাওয়াফ ও সালাত বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সৌদি, পাকিস্তান ও ফরাসি যৌথ বাহিনীর এক রক্তক্ষয়ী অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের উৎখাত করা হয়।







