ডার্ক ওয়েবের গভীরে নজরদারি চালিয়ে বিশ্বব্যাপী ম্যালওয়্যার শনাক্ত ও প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে অসাধারণ সাফল্য দেখাচ্ছেন বরিশালের পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলার সন্তান প্রফেসর ড. রফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব কম্পিউটিং, ম্যাথমেটিকস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রফেসর এবং ২০১৪ সাল থেকে ইউনিভার্সিটিটির সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চ গ্রুপের (CSRG) দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় সাইবার নিরাপত্তা, বিশেষ করে ম্যালওয়্যার বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিভাগ, ডার্ক ওয়েব হুমকি, ক্লাউড সিকিউরিটি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রাইভেসী এবং ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) সুরক্ষায় ড. রফিকুল ইসলামের কাজ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এ পর্যন্ত তাঁর ২০০টিরও বেশি পিয়ার-রিভিউড গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সাইবার নিরাপত্তার শিক্ষার্থীদের কাছে তাঁর লেখা বই ‘Inside the Dark Web’ একটি অন্যতম মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়।
অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় গুরুত্বসম্পন্ন ৬৮.৪ মিলিয়ন ডলারের বিশাল কর্মযজ্ঞ ‘সাইবার সিকিউরিটি সিআরসি’ (Cyber Security CRC) প্রজেক্টের চার্লস স্টার্ট ইউনিভার্সিটি একাডেমিক লিড হিসেবে কর্মরত আছেন তিনি। এ ছাড়া বিভিন্ন মেগা প্রজেক্টের সহ-প্রাপক হিসেবে তাঁর সংগৃহীত গবেষণা ফান্ডের পরিমাণ ৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। আন্তর্জাতিক এই অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে অস্ট্রেলিয়ান ইনফরমেশন সিকিউরিটি অ্যাসোসিয়েশন (AISA) তাঁকে ‘সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে।
অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ডিকিন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ও পোস্টডক সম্পন্ন করা এই গবেষক বর্তমানে দেশটির ‘২০২৩–২০৩০ সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি’ বাস্তবায়নে সরাসরি অবদান রাখছেন। তাঁর নেতৃত্বে গবেষক দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার প্রযুক্তির সাহায্যে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাংকিং খাত, কৃষি প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় যানবাহন এবং সরকারি ডেটা সুরক্ষায় এক দুর্ভেদ্য নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছেন।
