বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পরও দেশে আগের মতো খুন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও বিদেশে অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
মঙ্গলবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
রেজাউল করীম বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। বরং আগের সরকারের সময়কার ধারাবাহিকতাই এখনো চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ইসলামী আন্দোলনের আমির। একই সঙ্গে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
জ্বালানি তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা তুলে ধরে সরকারকে জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আহ্বান জানান রেজাউল করীম।
শহীদ জাহিদ আল আমিন বুলবুল হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ‘সিফাত বাহিনীর’ সদস্যদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, শহীদ বুলবুলের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সরকার অপরাধীদের শাস্তির ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ বা টালবাহানা করলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সারা দেশে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিতে হবে। সংবিধান ও আইন শুধু সংসদে আলোচনা না করে রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন। এতে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ দ্বীন ইসলাম।







