প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে আট বছরে প্রায় ২ হাজার ১৫২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য এইচবিএম ইকবাল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে এই অর্থ লোপাট করা হয় বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক ফরেনসিক অডিটে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, সরাসরি আত্মসাৎ এবং এর ফলে সৃষ্ট পরোক্ষ ক্ষতি মিলিয়ে প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরাসরি আত্মসাৎ করা হয়েছে ২ হাজার ১৫১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং পরোক্ষ ক্ষতির পরিমাণ ৫৬৩ কোটি ৪ লাখ টাকা।
একাত্তর বিজনেসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পাচার করা অর্থে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন এই আ.লীগ নেতা। সেখানে তাঁর অন্তত সাতটি বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাট রয়েছে, যার মধ্যে রাজপ্রাসাদসম একটি ভিলাও অন্তর্ভুক্ত। এনবিআরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাতেও ইকবাল পরিবারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে অনুসন্ধান চালাচ্ছ সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।
এইচবিএম ইকবালের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের পাশাপাশি দেশে আনুমানিক ১৩০ কোটি টাকার কর ফাঁকির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ী হিসেবে বিদেশে এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ কীভাবে স্থানান্তরিত হলো এবং সম্পদের উৎস কী, তা নিয়ে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে চরম প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা অন্তত ৭৩ জন বাংলাদেশির তথ্যানুসন্ধানে সক্রিয় হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুবাই কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো সেই তালিকায় এইচবিএম ইকবালের নামও রয়েছে। অর্থ পাচার ও কর ফাঁকির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত সম্পন্ন হলে বিদেশে গড়ে তোলা এই অবৈধ সাম্রাজ্যের আরও বিস্তারিত ও স্পষ্ট চিত্র সামনে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।







