আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে অন্তত ১০টি স্থানে বিমান ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, যেসব স্থান থেকে পাকিস্তানে ড্রোন সংরক্ষণ ও হামলা পরিচালনা করা হতো, কেবল সেসব সামরিক লক্ষ্যবস্তুতেই আঘাত হানা হয়েছে। তবে এই হামলায় চার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার সীমান্ত উত্তেজনার কারণ ব্যাখ্যা করে জানান, বুধবার আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের দিকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা বেশ কিছু ড্রোন শনাক্ত করে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ওই ড্রোনগুলো সফলভাবে প্রতিহত করার পরদিন বৃহস্পতিবারই আফগান ভূখণ্ডের ১০টি নির্দিষ্ট স্থানে এই পাল্টা বিমান ও ড্রোন হামলা চালায় পাকিস্তানি বাহিনী।
অন্যদিকে পাকিস্তানের এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি জানান, আফগানিস্তানের কান্দাহার, পাকতিয়া ও খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি হামলা পরিচালিত হয়েছে এবং এতে চারজন সাধারণ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বুধবার পাকিস্তানে ড্রোন হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে তালেবান মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তানের এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
মূলত সীমান্তজুড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা ও পাল্টাপাল্টি হামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ইসলামাবাদের টানা অভিযোগ—আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে নিয়মিত সহিংস হামলা চালিয়ে আসছে এবং কাবুল তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। তবে তালেবান সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
চলতি মাসজুড়ে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতির দিকে মোড় নেয়। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পুলিশ চেকপোস্টে হামলায় অন্তত ২৪ জন নিহতের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। এর জের ধরে গত সোমবারেও সীমান্তবর্তী এলাকায় পাকিস্তানের বিমান হামলায় ২৮ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে ইসলামাবাদ, যদিও ওই হামলায় তিন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল তালেবান ও জাতিসংঘ।







