একসময় ধীরগতির ড্রোনকে আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য সহজ লক্ষ্য মনে করা হলেও সেই ধারণাকে বদলে দিয়েছে ইরানের শাহেদ সিরিজের নতুন সংস্করণ ‘শাহেদ-২৩৮’। পুরোনো শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের আধুনিকায়নে তৈরি এই দ্রুতগতির সংস্করণে গতি ও আধুনিক প্রযুক্তির মারাত্মক সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে, যা আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
২০২৩ সালের নভেম্বরে ইরানের শাহেদ এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিজ প্রথমবার শাহেদ-২৩৮ উন্মোচন করে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে সীমিত পরিসরে উৎপাদনে যাওয়ার পর ২০২৬ সালের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। ড্রোনটির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে এর ইঞ্জিনে—পুরোনো পিস্টন ও প্রপেলারের পরিবর্তে এতে বসানো হয়েছে শক্তিশালী কমপ্যাক্ট টার্বোজেট ইঞ্জিন।
টার্বোজেট ইঞ্জিন সংযোজনের ফলে শাহেদ-২৩৮-এর গতি একলাফে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শাহেদ-১৩৬ ড্রোন যেখানে ঘণ্টায় মাত্র ১৮৫ কিলোমিটার বেগে উড়ত, সেখানে নতুন এই মডেলটির গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কিলোমিটার, যা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সময় ঘণ্টায় ৭০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
প্রায় সাড়ে তিন মিটার লম্বা এই ড্রোন ৯ হাজার মিটার উচ্চতায় উড়তে পারে এবং ৫০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বা ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। তবে গতি বাড়াতে গিয়ে ড্রোনটির জ্বালানি ধারণক্ষমতা ও আকাশে থাকার সময় কিছুটা কমে গেলেও এর ক্ষীপ্রতা প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম। ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার বেগে উড়ে আসা ড্রোনকে সনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষের সময় মেলে অত্যন্ত কম।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও চাপে ফেলতে ধীরগতির শাহেদ-১৩৬ ও দ্রুতগতির শাহেদ-২৩৮ ড্রোন একই সঙ্গে ব্যবহার করছে তেহরান। এ ছাড়া শত্রুর রাডার ও মিসাইল ডিফেন্স ধ্বংস করার জন্য নতুন এই মডেলে যুক্ত করা হয়েছে ইমেজিং-ইনফ্রারেড সিকার ও রাডার-হোমিং প্রযুক্তি।
বর্তমানে মাসে ২০০টির বেশি শাহেদ ড্রোন তৈরি করছে ইরান, যা সামনে আরও বাড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে তাদের। কম খরচের কামিকাজে ড্রোন যে কেবল ধীরগতির হয় না, বরং তা দিয়েও অত্যাধুনিক মিসাইল ডিফেন্সকে পর্যুদস্ত করা যায়—ইরানের দ্রুতগতির শাহেদ-২৩৮ ড্রোনটিই যেন তার বাস্তব প্রমাণ।







