মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আর না বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেল আমদানি, মূল্য পরিশোধ এবং মজুদের ক্ষেত্রে দেশে কোনো ধরণের সংকট তৈরি হবে না।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের মুখে ডিজেলসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে এক লাফে ২০ টাকা বৃদ্ধি করে সরকার, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহন ও নিত্যপণ্যের বাজারে। বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে অপেক্ষা না করেই সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে ওই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা ও বর্তমান সমন্বয়কৃত মূল্যের সুবাদে বিপিসি এখন তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সরকার। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ন বৈঠক করেন, যেখানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিতের বিষয়টি প্রাধান্য পায়। এছাড়া সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা রয়েছে এবং এটিকে ৯০ দিনে উন্নীত করতে স্টোরেজ বাড়ানোর কাজ চলছে। বিপিসি চেয়ারম্যান স্পষ্ট করেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র রূপ নিলেও বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে দেশের বাজারে দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হবে; আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও মূল্য কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করবে সরকার।
