হত্যাার পর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড়ের দিকে নিয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন নিজেই এই তথ্য জানান।
ঘটনার বিবরণ ও তদন্তের তথ্য:
-
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন স্বীকার করেছেন যে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর তার লাশ পাহাড় থেকে ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মতিউর রহমান।
-
মতিউরের নির্দেশে মোজাফফর সকাল ১০টার দিকে সৈনিকদের নিয়ে সার্কিট হাউসে যান এবং জিয়াউর রহমানের মরদেহ পাহাড়ে নিয়ে যান।
-
তবে নির্দেশ থাকলেও তিনি মরদেহ পাহাড় থেকে ফেলেননি; বরং একজন ইমামকে ডেকে এনে জিয়াউর রহমানসহ তিনজনের লাশ একটি কবরে দাফন করেন। তবে এটি যে রাষ্ট্রপতির মরদেহ, তা তারা সেই ইমামকে জানাননি।
-
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর হোসেন এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলো প্রকাশ করেন।
মোজাফফরের পরিচয়পত্র ও তৎকালীন রাজনৈতিক যোগাযোগ:
-
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জানান, মোজাফফরের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং পাসপোর্ট রয়েছে।
-
জিজ্ঞাসাবাদে মোজাফফর আরও জানান যে, তিনি ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালে দেশে ফিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।
-
সিরাজগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাতের মাধ্যমে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার দেখা হয়।
-
সেই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে স্যালুট দিয়ে তিনি করণীয় জানতে চাইলে, তাকে সেনাবাহিনীতে যোগদান ও আত্মসমর্পণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আত্মসমর্পণ করলেও সেনা সদরে যোগদানে বিলম্ব বা জটিলতার কারণে সাধারণ ব্যবসা-বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন।
প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানী ঢাকার বনানী থেকে মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
