কুমিল্লা জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আরও ৩৭৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানার সবকটি ইউনিট ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ একযোগে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে অংশ নেয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে এ চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়। নগরীর ব্যস্ততম এলাকা, পার্ক ও অলিগলিসহ যেসকল পয়েন্টে কিশোর এবং বখাটেদের আড্ডা ও উত্যক্তকরণের প্রবণতা বেশি, সেসব স্থান চিহ্নিত করে অভিযান চালায় পুলিশ। আটক ৩৭৯ জনের পূর্ব অপরাধের রেকর্ড ও গ্যাং সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে সাঁড়াশি জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত তিন দিনের অভিযানে ১৮টি থানা এলাকা থেকে সর্বমোট ১ হাজার ২৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় ৬১৯ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের বড় কোনো অপরাধের নথি নেই—বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক ৬৭৪ জনকে কঠোর মুচলেকা দিয়ে স্ব-স্ব অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাং ও বখাটে সংস্কৃতির সমূল উৎপাটন না হওয়া পর্যন্ত এই সাঁড়াশি অভিযান থামবে না। কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অ্যাডমিন) মো. লুৎফর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও উদীয়মান অপরাধীদের দমনাভিযানে পুলিশের প্রতিটি ইউনিট সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ চালিয়ে যাবে।
