বাংলাদেশে অসংলগ্ন তথ্য প্রদান, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সরকারি নথিপত্র বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩’-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত তাঁর আরও ৭ দিনের বাড়তি রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়ি ভোজ গ্রামের বাসিন্দা। গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। আটককালে প্রথমে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও রবিউলের পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, গত ১০-১২ বছর ধরে ভুয়া কাগজপত্র ও পরিচয়ে তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, ব্যবসার আড়ালে রবিউল বাংলাদেশে অবস্থান করে মূলত গুপ্তচরবৃত্তিতে লিপ্ত ছিলেন। অবস্থানকালে বাংলাদেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত সরকারি স্থাপনার ছবি তোলা, স্পর্শকাতর নথি সংগ্রহ এবং তা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে। দেশে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পেছনেও তাঁর হাত রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা।
এর আগে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দফায় মোট ৮ দিন রিমান্ডে নিয়ে রবিউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গোয়েন্দারা। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা আইনের (Official Secrets Act, 1923) আওতায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে আদালত থেকে মঞ্জুর হওয়া নতুন ৭ দিনের রিমান্ডে তাঁকে রেখে এই আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ও সহযোগীদের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।







