সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে বিক্রি করেও দেশের বাজারে মিলছে না তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। ১২ কেজির সিলিন্ডার বিইআরসি নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকার বদলে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায়। কোনো কোনো এলাকায় চড়া দাম দিয়েও সিলিন্ডার পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে আমদানিকারকরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবারই বিইআরসি থেকে দেশের ১২টি শীর্ষ এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানিসংক্রান্ত তথ্যের সাথে মিল রেখে সেপ্টেম্বর মাসের মোট আমদানি ও বিক্রির হিসাব আজ রোববারের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংকট ও কৃত্রিম অনটনের পেছনে আমদানিকারকদের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। তাদের দাবি, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমদানিকারকরা সরবরাহ ৮০ শতাংশ কমিয়ে দেন এবং ২৫ সেপ্টেম্বরের পর কয়েকটি প্রধান ডিপো থেকে সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিভিন্ন ডিপোর সামনে মালামাল নেওয়ার অপেক্ষায় শত শত ট্রাক দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে সংগঠনটি জানায়।
অন্যদিকে সরবরাহ কমানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। শনিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক বৈঠকে আমদানিকারকরা জানান, নির্ধারিত দামেই তাঁরা ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে এলপিজি বিক্রি করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকসান সত্ত্বেও সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
কিন্তু মধ্যস্বত্বভোগী ও ডিস্ট্রিবিউটরদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি জানিয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে এক হাজার ৪৭৫ টাকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও তাঁদের কাছ থেকে তোলা হচ্ছে এক হাজার ৫৫০ থেকে এক হাজার ৭২০ টাকা। ফলে খুচরা বিক্রেতাদের পক্ষে নির্ধারিত এক হাজার ৫৮৫ টাকায় বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বেশ কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে অতিরিক্ত এলপিজি মজুতের সন্ধান পেয়ে তদন্ত শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ। এর মধ্যেই এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড গ্রুপ। এ ছাড়া যমুনা ৩০ হাজার টন, বিএম ২১ হাজার ৮০০ টন এবং ওমেরা ১৮ হাজার টন এলপিজি আমদানি করেছে।
বাজারের এই বিশৃঙ্খলা সামাল দিতে নির্দেশনার পর মাঠে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ দেশের ১৬টি জেলায় একযোগে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তাদের সিলিন্ডার বিক্রিতে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ জানাতে ১৬১২১ হটলাইন নম্বরটি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।







