ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) দেশব্যাপী ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়া বা খসড়ায় না থাকার তথ্য সামনে আসার পর ভারতের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে নতুন তোলপাড় শুরু হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কোটি কোটি বৈধ ও প্রকৃত ভোটার গণহারে ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ ঘটনাটিকে গত কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের ইতিহাসের “সবচেয়ে বড় নির্বাচনী কেলেঙ্কারি” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাতিত্ব ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগ ও অভিশংসনের দাবি জানিয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো ইতোমধ্যে এ ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং আন্দোলনের ডাক দিয়েছে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) বিরোধী দলগুলোর তোলা এই অভিযোগ ও দাবিকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খসড়া ভোটার তালিকায় ১৩ কোটি নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টি মূলত ভুয়া, মৃত, স্থানান্তরিত ও দ্বৈত ভোটারদের প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ের অংশ। কোনো প্রকৃত ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে যেন বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে দাবি শাসকদলের।
