আগের দিন খেলা শেষে বেশ স্বস্তিতেই ছিল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের করা ৩৪৬ রানের জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান তুলে দিন শেষ করেছিল তারা। ফলে ম্যাচে ভালো অবস্থানে থাকার আশা করতেই পারে দলটি। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র ২১ রান যোগ করতেই আফগানিস্তানের বাকি ৬ উইকেট তুলে নিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। এতে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছে টাইগাররা।
বাংলাদেশের সাফল্যের শুরু ও শেষ—দুটিই করেছেন পেসার এবাদত হোসেন। আগের দিনই ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। তৃতীয় দিনের শুরুতে নতুন বলে ইকরাম আলিখিলকে বোল্ড করে রহমত শাহর সঙ্গে তাঁর ৮০ রানের জুটি ভেঙে দেন এবাদত।
এরপর বল হাতে ঝড় তোলেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করার কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। ইসমাত আলমকে বোল্ড করে উইকেট শিকারের সূচনা করেন হাসান। দুর্দান্ত ইনসুইংয়ে পরাস্ত হন আফগান ব্যাটার।
পরের বলে কাইস আহমেদকে আউট করেন হাসান। তাঁর আউটসুইংয়ে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে। দারুণ ক্যাচ নিয়ে সতীর্থকে সহায়তা করেন লিটন।
হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা নিয়ে তৃতীয় বলে নতুন ব্যাটার জিয়া আকবরকে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন হাসান। তবে আম্পায়ার প্রথমে আউট দেননি। বাংলাদেশ রিভিউ নিলে দেখা যায়, পিচিং, ইমপ্যাক্ট ও হিটিং—তিন ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে যায়। ফলে নিশ্চিত হয় হাসান মাহমুদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক।
এরপর ইয়ামিন আহমাদজাইকে ফিরিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করেন হাসান। তখন আফগানিস্তানের আর মাত্র একটি উইকেট বাকি ছিল।
তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে সেঞ্চুরি তুলে নেন রহমত শাহ। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ১০৫ রানে। অন্যদিকে মোহাম্মদ সালিমকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন এবাদত। এর মধ্য দিয়ে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে ৫৫ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ। এবাদত হোসেন ৫৬ রান খরচায় শিকার করেছেন ৪ উইকেট। বাকি উইকেটটি পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
আফগানিস্তানের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দিয়ে ১০৬ রানের লিড পাওয়ায় ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ।
