রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বাইরের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে শাহবাগ থানা-পুলিশ। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট ধারা এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ ঘিরে আইনি প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার পুলিশ বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০(খ) (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ১৫৩(ক) (বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ সৃষ্টি) এবং ২৯৫(ক) (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের উদ্দেশ্যে অপমান) ধারায় মামলাটি দায়ের করেছে। অথচ দণ্ডবিধির ১২৪(ক) ধারা সংবলিত রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ এই মামলায় যুক্ত নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধিতে স্পষ্ট রাষ্ট্রদ্রোহ বা ১২৪(ক) ধারার উল্লেখ না থাকা সত্ত্বেও অনেক সংবাদমাধ্যমে বিষয়টিকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা’ বা ‘রাষ্ট্রবিরোধী মামলা’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। ধারাগুলোর আইনি বাস্তবতার সঙ্গে সংবাদ শিরোনামের এই অসঙ্গতি গণমাধ্যমের পরিভাষা প্রয়োগের সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
অন্যদিকে, আসামিদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরোপিত ধারার সংগতি নিয়েও সচেতন মহলে আলোচনা চলছে। শিল্পকলার দেয়ালে অঙ্কিত রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতি বিকৃত করার চেষ্টা কিংবা পূর্বে ফেসবুকে করা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড রুচি ও শালীনতার পরিপন্থী হতে পারে, তবে তা কীভাবে দণ্ডবিধির অধীন ধর্মীয় অনুভূতির অবমাননা বা শ্রেণিগত বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অপরাধের আওতায় আসে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
বর্তমানে আসামিরা পুলিশ ও ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। ঘটনাটির সঠিক তদন্ত এবং কাজের মূল ধরনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ আইনানুগ বিচার নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছেন দেশের সচেতন নাগরিকরা।
