আলাদা প্রদেশ গঠনের প্রকাশ্যে রাষ্ট্রদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী হুমকি দেওয়ার পরও যেখানে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দেওয়ার দায়ে তরুণদের ওপর পুলিশি নিপীড়ন ও রিমান্ড মঞ্জুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের একটি বিতর্কিত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আইনের এমন ‘দ্বিমুখী প্রয়োগ’ নিয়ে নাগরিক সমাজে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি ‘চৈতালী চক্রবর্তী’ নামক এক ব্যক্তি দেশের সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীকে উদ্দেশ্য করে প্রকাশ্যে উসকানিমূলক হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করলে হিন্দুদের জন্য আলাদা প্রদেশ করতে বাধ্য হবো!” বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব চ্যালেঞ্জ করে দেওয়া এমন ভয়াবহ বিচ্ছিন্নতাবাদী ও রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্যের পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারের মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
অথচ অন্যদিকে, রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেওয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি দিয়ে মোছার চেষ্টার অপরাধে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর সদস্য সচিব আ ন ম আয়াসসহ চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। শনিবার পুলিশ তাঁদের আটক করে শাহবাগ থানায় অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের ধারায় মামলা দায়ের করে।
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আ ন ম আয়াস ও সাকিবুল হাসানের তিন দিন এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে ডিএসসিসি কর্তৃক অঙ্কিত প্রতিকৃতিগুলোর সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ প্রতিবাদ জানিয়েছিল।
দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বিনষ্টের হুমকি দিয়ে আলাদা প্রদেশ দাবির মতো স্পর্শকাতর রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধে প্রশাসন নীরব থাকলেও, একজন কবির ছবিতে কালি লেপনের দায়ে ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ রাষ্ট্রবিরোধী আইনে রিমান্ড ও নিপীড়নের মুখোমুখি করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সচেতন নাগরিকেরা।







