জুলাই গণহত্যার বিচারকে বর্তমান সরকার দায়সারা কাজে পরিণত করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) শীর্ষ নেতারা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই গণহত্যার বিচার: রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি অংশ এখন মুখে জুলাইয়ের কথা বললেও অন্তরে আওয়ামী লীগকে ধারণ করছে।
আলোচনা সভায় এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোর কোনো পরিবর্তন না করে শুধু নেতৃত্ব বদল করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। ফিটনেসবিহীন গাড়ির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গাড়ির চাকা ও ইঞ্জিন নষ্ট থাকলে যত দক্ষ চালকই হোক, গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না; ঠিক একইভাবে রাষ্ট্রকাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া তারেক রহমানকে চালকের আসনে বসালেও দেশ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাবে না।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মামলা-হামলায় নির্যাতিত বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা আজ গুরুত্ব পাচ্ছেন না, অথচ ৫ আগস্টের পর দলটিতে যুক্ত হওয়া একটি অংশ ব্যবসায়িক সুবিধা ও প্রভাব বিস্তারে ব্যস্ত। একই সাথে থানাগুলোতে দায়ের হওয়া জুলাই গণহত্যার মামলাগুলোকে পুলিশ ও একটি গোষ্ঠী বাণিজ্য ও অর্থ আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী সালাহউদ্দিন আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, সম্পদ বৃদ্ধি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও তোলেন এনসিপির এই নেতা।
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি বলেন, গণহত্যা ও ফ্যাসিবাদের বিচার বাদ দিয়ে বিএনপি এখন চাঁদাবাজি সামলাতেই হিমশিম খাচ্ছে। বিএনপি চাঁদাবাজিতে ভরে গেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৭ বছর নির্যাতিত হওয়ার অজুহাতে স্বাস্থ্যকেন্দ্র কিংবা কারো স্টুডিও ভেঙে ফেলার অধিকার বিএনপির নেই।
এছাড়া এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা না বাড়ানো এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তীসহ আহত ‘জুলাই যোদ্ধারা’ গণহত্যার দায়ে জড়িত মূল অপরাধী ও পলাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে সরকার ও আদালতের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট ও জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানান।







