সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার এবং নিউইয়র্কে হেনস্তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ জন উপদেষ্টা। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অপপ্রচারের মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষায় সূচিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে কটূক্তি ও উসকানিমূলক আচরণ করেন। এর পরপরই এক বিবৃতিতে সাবেক উপদেষ্টারা এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ও রাজনৈতিক অপশক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের অর্জনকে ক্ষুণ্ন করতে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে দায়িত্ব নিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষত দূর করে রাষ্ট্র পুনর্গঠনে ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে সফলভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়, যার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় উত্তরণের পথ সুগম হয়েছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তরুণ ও সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া এই সংস্কার ও মর্যাদার ম্যান্ডেট কোনো মিথ্যাচার, ব্যক্তিগত হুমকি কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারের সমর্থকদের অপচেষ্টায় মুছে ফেলা যাবে না।
উক্ত যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন সাবেক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সি আর আবরার, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, ফরিদা আখতার, শারমীন সোনিয়া মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।







