চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবন থেকে উদ্ধারের পর পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে না ফেরার দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তা ও গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, সরকারের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসে সুস্থ হয়েই তিনি পুনারায় ক্যাম্পাসে ফিরবেন।
টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ও অমানবিক পরিবেশে অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবরুদ্ধ অবস্থার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তিনিসহ অন্তত ১১ জন সদস্যের স্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটে।
ক্যাম্পাস ছেড়ে আসার সময় পদত্যাগের অঙ্গীকার সংক্রান্ত খবরের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপাচার্য বলেন, “আমি পদত্যাগ করেছি এবং কখনো আর চুয়েটে ফিরব না—গণমাধ্যমে প্রচারিত এই তথ্যটি সম্পূর্ণ অসত্য। অসুস্থতার কারণে উদ্ধারের সময় আমি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলাম না, কোনো পদত্যাগপত্র বা বিবৃতিও দিইনি।” এ সময় গণমাধ্যমকে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্ররোচনায় পড়ে তারা যেন নিজেদের অমূল্য একাডেমিক জীবন নষ্ট না করে। রাষ্ট্র কর্তৃক অর্পিত অর্পিত দায়িত্ব পালন করতেই তিনি ক্যাম্পাসে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তাঁর কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় এজেন্ডা নেই।
উল্লেখ্য, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপেক্ষা করে সোমবার সকালে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন নতুন উপাচার্য। বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখলে ক্যাম্পাসে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে সাময়িক রূপ নেয়।







