বঙ্গভঙ্গকে বাংলাদেশের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক আত্মপরিচয় ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ঐতিহাসিক ভিত্তিমূল হিসেবে অভিহিত করেছেন জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ। ১২১তম বঙ্গভঙ্গ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বিজয়নগরে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
আলোচনা সভায় নাঈম আহমাদ আফসোস প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে তাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি দাবি করলেও এই ভূখণ্ডের আত্মপরিচয়ের প্রথম সোপান বঙ্গভঙ্গ দিবস নিয়ে দলটির কোনো কর্মসূচি ছিল না। বিএনপি কিংবা কথিত ‘বাংলাদেশপন্থী’ অপরাপর দলগুলো কর্তৃক জাতীয় ইতিহাসের এই মাইলফলক অধ্যায়টিকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ কেবল ব্রিটিশদের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস ছিল না; বরং এর মাধ্যমে পূর্ব বাংলার অনগ্রসর মুসলিম সমাজ ও দলিত হিন্দুদের ভাগ্যোন্নয়নের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হয়েছিল। ঢাকাকে নতুন প্রদেশের রাজধানী করায় এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়, যা কলকাতার পুঁজিপতি ও জমিদার শ্রেণির অর্থনৈতিক শোষণ থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে জেডিপির আহ্বায়ক বলেন, ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হলে কলকাতার হিন্দু এলিট ও কংগ্রেস নেতারা শোক পালন ও সংবর্ধনা বর্জনের ডাক দিয়ে উগ্র হিন্দুত্ববাদের সূচনা করেছিলেন। যদি সেই সময় উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের বাধার মুখে বঙ্গভঙ্গ রদ না হতো, তবে ১৯৪০-এর দশকেই উপমহাদেশে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ জন্ম নিতে পারত।
সভাপতির বক্তব্যে জেডিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ইমরান হোসেন রাহাত বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার যে রাজনৈতিক ও আদর্শিক যাত্রা, তার মূল বীজ রোপিত হয়েছিল ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গেই। সেই স্বাধিকার ও আত্মমর্যাদার লড়াইয়ের ধারাবাহিকতাই পরবর্তীতে ১৯৪৭, ১৯৭১ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বহমান রয়েছে।
সমাবেশ থেকে বঙ্গভঙ্গের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ধরে রাখতে এই দিনটিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা, পাঠ্যপুস্তকে সঠিক ইতিহাস অন্তর্ভুক্তি এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টির উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। জেডিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মাহতাব হোসেন সাব্বিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
