আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের (এমপি) পছন্দমতো প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার বিভাগ ৫১ কোটি ১৮ লাখ টাকার বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে। আদেশে ‘মন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী’ ২০৩টি আসনের ৩ হাজার ১৫৯টি ইউনিয়নের জন্য এই বিপুল অর্থ অনুমোদন করা হয়। তবে বিরোধী দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যেসব আসনে বিজয়ী হয়েছেন, চরম বৈষম্যমূলকভাবে সেসব এলাকাকে এই বরাদ্দের বাইরে রাখা হয়েছে।
আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তফসিল ঘোষণার মাত্র কয়েক মাস আগে কেবল ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য আলাদাভাবে দেড় লাখ টাকা (প্রতি আসনে গড়ে ২৫ লাখ টাকা) বরাদ্দ দেওয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত সুবিধা বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে খরচ করার মেয়াদ থাকায় নির্বাচনের মুখে এমপিদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বরাদ্দের এই রাজনৈতিক ছক সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়েছে আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে। ময়মনসিংহ, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুমিল্লার মতো যে অঞ্চলগুলোতে বিরোধী জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এমপি হিসেবে রয়েছেন, সেসব আসনের ইউনিয়নগুলোকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কুমিল্লার বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের কুমিল্লা-১১ বা হাসনাত আবদুল্লাহর কুমিল্লা-৪ আসন কোনো বরাদ্দ পায়নি। তবে বিএনপি ছেড়ে আসা খেলাফত মজলিসের সিলেটের একটি আসনে ঠিকই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই পদক্ষেপকে চরম অনৈতিক, অগণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছে সুশীল সমাজ ও সুশাসন পর্যবেক্ষকরা। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি কোষাগারের টাকায় এভাবে কেবল দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতিষ্ঠিত করার কৌশল সরাসরি ইউপি নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। নির্বাচন কমিশন বিষয়টিকে পর্যালোচনা করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
