আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য সামনে রেখে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হলেও পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি নিয়ে জটিলতা কাটেনি। জাপানি কনসোর্টিয়ামের ৪টি কঠিন শর্তের কারণে চূড়ান্ত চুক্তি আটকে রয়েছে।
শুরু থেকেই বিকল্প কোনো অপারেটর না থাকায় দরকষাকষিতে বাংলাদেশ কিছুটা দুর্বল অবস্থানে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যে ৪টি শর্ত নিয়ে মতবিরোধ:
- রাজস্ব ভাগাভাগি: আগে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ২৭ শতাংশ রাজস্ব পাওয়ার কথা থাকলেও, অপারেশনাল প্রস্তুতির প্রথম আট মাসে তা কমিয়ে সাড়ে ১৩ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জাপানি পক্ষ।
- গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও ঝুঁকি: গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের সার্বিক দায় ও ঝুঁকি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর রাখার কথা বলা হলেও এর আর্থিক সুবিধা ও ক্ষয়ক্ষতির দায় বণ্টন নিয়ে এখনো সমঝোতা হয়নি।
- আইনি সুরক্ষা: জাপানি কনসোর্টিয়াম ভবিষ্যতে দেশের সাধারণ আইন বা আইনি পরিবর্তন থেকে বিশেষ দায়মুক্তি ও সুবিধা চেয়েছে, যা দেশের প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
- ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা (ডিএলপি): প্রকল্পের ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা বাংলাদেশ ৯ মাস রাখতে চাইলেও জাপানি পক্ষ তা বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি জানিয়েছে। এছাড়া যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার দায়বদ্ধতার মেয়াদ ৬ মাস থেকে বাড়িয়ে ১২ মাস করার দাবি তোলা হয়েছে।
প্রথম দিনের ফ্লাইট নিয়ে মতপার্থক্য:
উদ্বোধনের দিন কতটি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে এখনো ঐকমত্য হয়নি। বেবিচক প্রথম দিন অন্তত ১০টি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে চাইলেও জাপানি পক্ষ মাত্র ৪টি (দুটি আগমন ও দুটি বহির্গমন) ফ্লাইট চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
পরবর্তী করণীয়:
জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি ও অমীমাংসিত শর্তগুলো লিখিতভাবে বিমান মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত এবং আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের পর নভেম্বরের মাঝামাঝি নাগাদ চুক্তি সইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।







