আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিশ্বখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বাদী ও কথিত গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর (৮৭) মৃত্যুর পর তাঁর জানাজা, দাফন ও রাষ্ট্রীয় সালাম (গার্ড অব অনার) প্রদানকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে দিনভর চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পলাতক অবস্থায় মানিক পশারী মৃত্যুবরণ করেন। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিল শারীরিক রোগে ভোগার পর সকালে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পিরোজপুরে পৌঁছালে চিথলিয়া গ্রামসহ পুরো জেলায় সাঈদী অনুরাগী ও তৌহিদী জনতার মাঝে চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
মানিক পশারীর লাশ পিরোজপুরে আনা হলে বিক্ষুব্ধ জনতা ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা তাঁর জানাজা, দাফন এবং রাষ্ট্রের অর্থ ও সম্মান ব্যবহার করে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদানের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রশাসন মিলনায়তনের পরিবর্তে তড়িঘড়ি ও চরম গোপনীয়তার সাথে জেলা পুলিশ লাইনসের ভেতরে লাশ নিয়ে গিয়ে বিতর্কিতভাবে গার্ড অব অনার সম্পন্ন করে।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের এই গোপনীয় ভূমিকায় চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে জেলাজুড়ে। খবর পেয়ে আল্লামা সাঈদীর অগণিত ভক্ত ও স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা শহরের শিকারপুর ও ঝাটকাঠি বাইপাস মোড়ে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পিরোজপুরের মাটিতে ভুয়া ও মিথ্যা মামলার বাদীকে কোনো ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া এবং দাফন করার চেষ্টার বিরুদ্ধে তারা রাজপথে কঠোর হুঙ্কার দেন।
পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাষায় জানান, “মানিক পশারী একজন চিহ্নিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং আল্লামা সাঈদী রাহিমাহুল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রধান কারিগর। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে আল্লামা সাঈদীকে ফাঁসি দিতে তিনি আওয়ামী ফ্যাসিবাদের সাথে হাত মিলিয়েছিলেন। পিরোজপুরের পবিত্র মাটিতে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার লাশ কোনোভাবেই দাফন করতে দেওয়া হবে না।”
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লাশ দাফন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পিরোজপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তালেবুর রহমান ও সদর থানার ওসি মো. শরিফুল ইসলাম জানান, সার্বিক পরিস্থিতির ওপর পুলিশ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে এবং জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা করে দাফনের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন এই মানিক পশারী। উক্ত বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল ২০১৩ সালে সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ তা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় বন্দি থাকার পর ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী শাহাদাত বরণ করেন।
