বরিশালের বাবুগঞ্জে নিজ সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করতে জীবন যৌবন পার করা তাহমিনা বেগম (৬৫) নামে এক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধার পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দীর্ঘ তিন মাস ধরে সন্তানহীন একাকী অবস্থায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন তিনি। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে থাকা সত্ত্বেও পরম মমতায় বড় করা কোনো সন্তানই শেষ সময়ে এই মায়ের পাশে ছিলেন না।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের নতুন হাট এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ওই ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে প্রতিবেশীরা অনুসন্ধানে গিয়ে দরজা বন্ধ ঘরে তাঁর লাশ দেখতে পান।
নিহত তাহমিনা বেগম বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। মরদেহের পচন দেখে পুলিশ ধারণা করছে, অন্তত দুই দিন আগে কোনো এক সময়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্ত ছাড়া মৃত্যুর সঠিক সময় ও প্রাথমিক কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার মর্মান্তিক নেপথ্য জানতে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে তাহমিনার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুন্দর করার তাগিদে এবং তাঁদের মানুষ করতে তিনি কঠিন সংগ্রামে নেমে সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে টানা বহু বছর হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁর বড় ছেলে সুমন হাওলাদার রাজধানীতে বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানার মালিক এবং ঢাকার উত্তরা এলাকায় তাঁর নিজস্ব ছয়তলা ভবন রয়েছে। ছোট ছেলেও একটি সুপ্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থায় ভালো পদে কর্মরত। এছাড়া দুই মেয়েকেও স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত পরিবারে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
বাড়ির মালিক আবদুর বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনার বড় ভাই এসে বৃদ্ধাকে এই বাসায় ভাড়া তুলে দেন। বয়সের ভারে বৃদ্ধা প্রায়ই নানা ব্যাধি ও অসুস্থতায় ভুগতেন। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, গত তিন মাসে তাঁর কোনো ছেলে বা মেয়ে একবারের জন্যও নিজের গর্ভধারিনী মাকে দেখতে আসেননি।
এই চরম অবহেলা ও নির্মমতার বিষয়ে বক্তব্য নিতে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাহমিনা বেগমের ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পেলেই আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে।
