ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় কারাবন্দী স্বামীকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করার প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে (৪৫) জোরপূর্বক হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত মূল অভিযুক্ত হযরত আলী মণ্ডল পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখতারুল আলম ফারুকের অনুসারী বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী জাহানারা খাতুন বাদী হয়ে ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মামলাটি রুজু করা হয়। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাশেদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের নিজ ঘরে এই লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী জাহানারা খাতুনের স্বামী দুলাল মিয়া একটি আর্থিক লেনদেনের মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন এবং প্রায় দেড় মাস কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
অভিযোগ রয়েছে, স্বামী কারাগারে থাকাকালীন সময় থেকেই পুটিজানা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মণ্ডল ওই নারীকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং নানা উপায়ে উত্ত্যক্ত করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি স্বামীকে দ্রুত জামিনে মুক্ত করে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের জন্য চরম চাপ সৃষ্টি করেন। অতীতে স্থানীয় নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে অংশ নেওয়া জাহানারা খাতুন এই অনৈতিক প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করেন।
ঘটনার দিন অভিযুক্ত যুবদল নেতা ভুক্তভোগীর ঘরে প্রবেশ করে জোরপূর্বক তাকে হেনস্তা ও ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে এই অপচেষ্টার প্রায় ৭ মিনিট দীর্ঘ (৬ মিনিট ৫৭ সেকেন্ড) একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ওসি রাশেদুল ইসলাম জানান, মামলার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবদল নেতা হযরত আলীকে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে এবং সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছে।
