দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার এক যুগ পর সরকারিভাবে বীর মুক্তিযোদ্ধার খেতাব ও গেজেট পান বিতর্কিত মানিক পশারী। সাবেক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনামলে ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে তাঁকে এই খেতাব দেওয়া হয়।
পিরোজপুরের স্থানীয় প্রবীণ বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন মানিক পশারীর ভূয়া সনদের বিষয়টি প্রকাশ করে জানান, মানিক পশারী প্রকৃতপক্ষে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে কোনো অংশ নেননি। সাঈদীর বিরুদ্ধে আদালতে ‘মিথ্যা ও সাজানো সাক্ষ্য’ দেওয়ার সরাসরি পুরস্কার হিসেবেই তাকে এক যুগ পর এই সনদ দিয়ে গেজেটভুক্ত করা হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওই গেজেটের কারণে সম্প্রতি মানিক পশারীর মৃত্যুর পর নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ প্রশাসন তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করতে গেলে স্থানীয় ক্ষোভের মুখোমুখি হতে হয়। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার প্রতিবাদে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনুসারী ও সাধারণ মানুষ বাধার সৃষ্টি করেন।
স্থানীয় সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধারাও মানিক পশারীকে একজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করে বলছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং একজন শীর্ষ আলেমকে ফাঁসানোর চক্রান্তে অংশ নেওয়ার বিনিময়েই তাকে এই ভূয়া খেতাব ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
