ইরানের পরমাণু নীতিতে আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনিকে পারমাণবিক বোমা তৈরির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রভাবশালী ইরানি আইনপ্রণেতা মাহমুদ নাবাভিয়ান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মাহমুদ নাবাভিয়ান জানান, শিয়াদের অন্যতম প্রধান পবিত্র নগরী কোমে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে উপস্থিত জনতা ও শীর্ষ ধর্মীয় মহল ‘তাকবির’ (আল্লাহু আকবার) ধ্বনি দিয়ে তাঁর এই প্রস্তাবের প্রতি জোরালো সমর্থন প্রকাশ করেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম রূপ নেওয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য তেহরানের নীতি নির্ধারক মহলে জোর দাবি উঠছে। নাবাভিয়ানের এই বক্তব্য সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি ও ব্যবহারের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক ধর্মীয় ফতোয়া জারি করেছিলেন, যেখানে পরমাণু অস্ত্রকে ইসলামবিরোধী হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। তবে চলমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নতুন নেতৃত্বের কারণে এই নীতি পুনর্মূল্যায়নের জন্য ইরানি পার্লামেন্টের অন্তত ৭০ জন সদস্য ইতিমধ্যে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের কাছে চিঠি দিয়েছেন।
যদিও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছিলেন যে দেশটি এখনো আগের ধর্মীয় দিকনির্দেশনাতেই অটল রয়েছে, তবে আগামী দিনের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সামরিক সুরক্ষার স্বার্থে নীতির পরিবর্তন হতে পারে কিনা সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।
