কুমিল্লার লালমাইয়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার ভূশ্চিবাজার ও হরিশ্চর এলাকায় পৃথকভাবে এই সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলার হরিশ্চরে আয়োজিত একটি সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রথম দফায় বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পূর্ববিরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।
এ ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং বর্তমান সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার অনুসারী নেতাকর্মীদের মধ্যে সরাসরি হাতাহাতি ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে হরিশ্চরে মূল দলীয় কর্মসূচি শেষ করে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে ভূশ্চি বাজার এলাকায় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পুনরায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আলমগীর, যুবদল নেতা মামুন ও সাদ্দাম এবং মনিরুল হক চৌধুরীর সমর্থক বিএনপি নেতা ফরহাদ উদ্দিন ও যুবদল নেতা তামিম ইকবাল গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্বিতীয় দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর এক পক্ষ পাল্টা ধাওয়া দিলে অপর পক্ষের লোকজন বাজার এলাকা ছেড়ে স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার সমর্থকেরা মহড়া দিয়ে ভূশ্চি বাজার এলাকায় অবস্থান নেন ও নানা স্লোগান দেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোজাম্মেল ফেসবুকে লাইভে এসে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন মনিরুল হক চৌধুরীর রাজনীতি করে তিনি নিজে ১৩টি মামলার আসামি হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার আমলে এসেও মনিরুল হক চৌধুরীকে কেন্দ্র করেই এলাকায় দলের ভেতরে বিষাক্ত কোন্দল ও গ্রুপিং তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুবদল নেতা মাকসুদুর রহমান মাকসুদ পাল্টা দাবি করে বলেন, আহত আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের নেতা মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিষোদ্গার করছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরেই মূলত তাকে এলাকায় সক্রিয় দেখা গেছে। এ বিষয় নিয়ে তাদের সাথে মীমাংসা হলেও পরে মোবাশ্বের আলমের লোকেরা সমাবেশ শেষে ফরহাদ ও তামিমের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নতুন করে সংঘাত উসকে দিয়েছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ভূশ্চিবাজার এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
