২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা ১১টা ৬ মিনিটে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন।
যেভাবে জানা যাবে ফল
অনলাইনে দুটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল দেখা যাবে। ওয়েবসাইট দুটি হলো—
ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে। এ ছাড়া মোবাইল ফোন থেকে ১৬১৪০ নম্বরে নির্ধারিত নিয়মে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে।
পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর
প্রকাশিত ফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামীকাল রোববার (১ নভেম্বর) থেকে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদন করতে হবে অনলাইনে; ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
এ জন্য শিক্ষার্থীদের rescrutiny.eduboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড নির্বাচন করে সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। পরবর্তী ধাপে বিষয়ভিত্তিক ফলাফল থেকে যে বিষয় বা বিষয়গুলোর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ করতে চান, সেগুলো নির্বাচন করে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে।
প্রতিটি পত্রের জন্য পুনর্নিরীক্ষণ ফি ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। বিকাশ, নগদ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।
ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদন সম্পন্ন হবে। আবেদন করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে পুনর্নিরীক্ষণের ফল জানানো হবে।
আবেদন সংশোধনের নিয়ম
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, ফি পরিশোধের আগে নির্বাচিত বিষয় পরিবর্তন বা সংশোধন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ‘মুছে ফেলুন’ অপশন ব্যবহার করে নতুন করে বিষয় নির্বাচন করতে হবে। তবে ফি পরিশোধের পর আবেদন করা কোনো বিষয় বাতিল করা যাবে না এবং পরিশোধিত ফিও ফেরত দেওয়া হবে না।
একবার আবেদন জমা দেওয়ার পর নতুন কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় আবেদন করতে হবে।
যেদিন শুরু হয়েছিল পরীক্ষা
গত ২ জুলাই দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয়।
