কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় একটি গভীর নলকূপ খননের সময় ভূগর্ভ থেকে প্রবল বেগে গ্যাস নির্গত হয়ে সৃষ্ট আগুন চার দিনেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা ১১ দিন ধরে এভাবে আগুন জ্বলতে থাকলে এটি দেশের ৩১তম গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে।
পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শনের জন্য শুক্রবার রাতে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের একটি উচ্চপদস্থ বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পরিদর্শন শেষে বাপেক্সের ভূতত্ত্ব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শামসিয়া মুকতাদির গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থলে নতুন গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে আগুন নেভানো সম্ভব নয়। আগামী ১৫ দিন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই ১৫ দিনের মধ্যে যদি প্রাকৃতিকভাবে গ্যাসের নির্গমন ও আগুনের তীব্রতা কমে না আসে, তবে আধুনিক ও উপযুক্ত পদ্ধতিতে গ্যাস নির্গমনের পথ পুরোপুরি সিল বা বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ ধরনের কারিগরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাপেক্সের পর্যাপ্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে। এক্ষেত্রে বাইরের কোনো বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন হবে না। তবে প্রকৃতির গতিপ্রকৃতি অনিশ্চিত হওয়ায় যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে চারপাশে কঠোর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনের শিখার বিশেষ রং পর্যবেক্ষণ করে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মোহাম্মদ শোয়েব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন।
তিনি জানান, আগুনের শিখায় এক ধরনের কালচে ভাব লক্ষ করা গেছে, যা দেখে ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা—এখানে শুধু গ্যাস নয়, খনিজ তেল বা পেট্রোলিয়ামের মজুতও থাকতে পারে। আগামী ১৫ দিন সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
