ময়মনসিংহ শহরে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা কেনাবেচার প্রস্তুতির সময় দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক একটার দিকে নগরের সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকার একটি দোতলা ভবনের নিচতলা থেকে তাঁদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানকালে আসামিদের কাছ থেকে আনুমানিক ৬ লাখ টাকা মূল্যের ১ হাজার ২০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ছাত্রদল নেতা মনিরুল ইসলাম (৩০) ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চর ঘাগড়া গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার হওয়া অপর চারজন হলেন—ত্রিশাল উপজেলার শাকির হোসেন (২৫), ময়মনসিংহ শহরের মধ্য বাড়েরা এলাকার জাকিরুল ইসলাম (৩২), সদরের ঘাগড়া ইউনিয়নের সজীব মিয়া (২০) এবং সারদা ঘোষ রোড এলাকার উৎসব সিং সাগর (২৮)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেওড়া মুন্সিবাড়ি এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান কেনাবেচা হচ্ছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টার সময় পাঁচজনকে আটক করা হয় এবং তল্লাশি চালিয়ে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রিপন উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুল হক জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘ দিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তারা কোথা থেকে এই ইয়াবার চালান এনেছিল এবং কাদের কাছে সরবরাহ করত, তা জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে এবং ব্যক্তিপর্যায়ের কোনো অপরাধের দায় সংগঠন নেবে না। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ছাত্রদল সভাপতি আরও বলেন, “কমিটি গঠনের সময় প্রত্যেকের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মনিরুল মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তা আমাদের জানা ছিল না। বর্তমান বাস্তবতায় কেউ কোনো অপকর্মে যুক্ত হলে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”
