বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় দিশা (১৯) নামের এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তরুণী নিহত তাহসিফের কথিত বান্ধবী। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে তুলে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ২টার দিকে গ্রেপ্তারের বিষওয়টি নিশ্চিত করেছেন নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি জানান, উত্তরার বারের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া সেই তরুণীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনে ও ঘটনার পেছনের সত্যতা জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ‘নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে’ তাহসিফ, তাঁর বন্ধু দীপ এবং এই তরুণীকে একসঙ্গে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী প্রথমে একটি মোটরসাইকেলে রেস্টুরেন্টের সামনে পৌঁছান এবং এর কিছু পরে আরেকটি মোটরসাইকেলে পৌঁছান দীপ। এরপর তিনজনে একসঙ্গে লিফটে উঠে বারে যান এবং দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৩৪ মিনিট অবস্থান শেষে রাত ১১টা ৫১ মিনিটে সেখান থেকে বের হয়ে যান।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর এই তিনজন কোথায় গিয়েছিলেন এবং কখন কীভাবে তারা পৃথক হয়েছিলেন, সেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্রটিই হন্যে হয়ে খুঁজছে তদন্তকারী দল।
নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁর বন্ধু দীপকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দীপের দেওয়া নানা বক্তব্যে গুরুতর অসংগতি পাওয়ার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত তরুণী দিশাকে চিহ্নিত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, রিমান্ডে থাকা দীপের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ট্র্যাক এবং গ্রেপ্তারকৃত তরুণী দিশাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে মৃত্যুর আগের রাতের আসল ঘটনা উদঘাটন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে নাকি পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা শিগগিরই স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে পুলিশ।
