ধর্মীয় বক্তা ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই)-এর নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। নিজেকে মিসবাহর ষষ্ঠ স্ত্রী দাবি করে মেহের আফরিন নামের এক রোহিঙ্গা নারী প্রকাশ্যে আসায় এই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ফেস দ্য পিপল’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা মেহের আফরিন নামের ওই নারীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহর।
মেহের আফরিনের অভিযোগ, বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া এবং সৌদি আরবে পাঠানোর লোভ দেখিয়ে তাকে রোহিঙ্গা শিবির থেকে বের করে আনা হয়। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয় এবং তাকে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়া হয়। ওই ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে পাসপোর্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছিল বলে তার দাবি। এছাড়া পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর মতো গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন ওই নারী।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বড় মাদরাসা-সংলগ্ন একটি স্টিল ভবনের পঞ্চম তলায় মিসবাহর ভাড়া বাসায় তারিকুল ও আল আমিন নামের দুই ব্যক্তির উপস্থিতিতে তাদের মৌখিক বিয়ে সম্পন্ন হয়, তবে কোনো কাবিননামা করা হয়নি। ওই প্রতিবেদনে আর্থিক লেনদেনের প্রমাণ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল মিসবাহর ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে মেহেরের কাছে প্রথমে ৫০ হাজার এবং পরে আরও ৩০ হাজার টাকা পাঠানোর তথ্যও প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে মিসবাহর একটি কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে কাবিননামা ছাড়া রোহিঙ্গা নারীকে মৌখিকভাবে বিয়ে করা এবং পরবর্তী সময়ে ওই নারীর পরিচয়পত্র ভুয়া প্রমাণিত হলে সম্ভাব্য আইনি জটিলতা নিয়ে আলোচনা করতে শোনা যায় মিসবাহকে। মিসবাহর সাবেক ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আল ইমরানসহ বিভিন্ন সূত্র এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে আরও নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন।
আইনজীবীদের মতে, ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি বা তৈরিতে সহায়তা করা জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ডের অপরাধ। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের বিধান অনুযায়ী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগও অত্যন্ত গুরুতর।
যা বলছেন মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ: নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ দাবি করেছেন যে, ওই রোহিঙ্গা নারীকে তিনি চেনেন না এবং কোনো প্রমাণ বা নথি ছাড়াই তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যবসায়িক প্রতিহিংসা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “নাটক দেখে করিসনে ভয় আড়ালে তার সত্য হাসে।” তিনি আরও বলেন, তাকে ও তার কোম্পানির ক্ষতি করার জন্য একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। খুব শীঘ্রই এর পেছনে থাকা আসল সত্য ও তথ্যগুলো তিনি জাতির সামনে উন্মুক্ত করবেন বলে হুশিয়ারি দিয়েছেন।
