চুয়াডাঙ্গায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতির ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের খবরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নজিরবিহীন ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। বিতর্ক সামাল দিতে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের পুরো কমিটিই বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ।
রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখা ছাত্রদলের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় তা বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই দুটি ইউনিটের নতুন কমিটি প্রকাশ করা হবে। ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
যেভাবে সংবাদের শিরোনামে কেন্দ্রবিন্দু ‘ছেলের এইচএসসি পাস’: দলীয় সূত্র ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সারাদেশে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে কৃতকার্য হন। ছেলের পাসের এই সুখবরটি তিনি অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেন।
কিন্তু ছাত্রদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ছাত্রসংগঠনের জেলা সভাপতির ছেলের এইচএসসি পাসের খবর প্রকাশ পেতেই নেটিজেন ও স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক হাস্যরস ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল করে মন্তব্য করেন, “বাবার বয়স ও ছাত্রত্ব শেষ, এবার সভাপতির পদটি ছেলের কাছে হস্তান্তর করা হোক।”
মুহূর্তের মধ্যেই পোস্ট ও বিতর্কটি ভাইরাল হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের নজরে আসে। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং পদবঞ্চিত নেতাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় সংসদ।
যদিও বিজ্ঞপ্তিতে প্রাতিষ্ঠানিক কারণ হিসেবে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ’ কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে, তবে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদল সভাপতির ছেলের এইচএসসি পাসের খবরকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া চরম বিতর্ক ও সমালোচনা সামাল দিতেই মূলত এই তাৎক্ষণিক ও নজিরবিহীন পদক্ষপ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
