সরকার গঠনের পর বিএনপি সরকারের গত ৮ মাসে কয়েক দফায় ১২ কেজি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম সিলিন্ডারপ্রতি ৭১৯ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের গত মার্চ মাসে ১ হাজার ৩৪১ টাকা দামের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের অফিশিয়াল মূল্য চলতি নভেম্বর মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকায়—যা সাড়ে ৮ মাসের ব্যবধানে প্রায় ৫৪ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি।
তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া এই দামে দেশের কোথাও এলপিজি কিনতে পারছেন না সাধারণ ভোক্তারা। অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি টাকা, এমনকি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েও বাজার থেকে এলপিজি পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রান্নার জ্বালানি হিসেবে এটি ব্যবহারকারী পরিবারগুলোকে।
সর্বশেষ দামের বিশ্লেষণ দেখাচ্ছে—গত সেপ্টেম্বর মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের বিইআরসি নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবর মাসে তা ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করা হয়। আর চলতি নভেম্বরে ফের ২২৩ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ হাজার ৬০ টাকা করা হলেও বাস্তবিক বাজারে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি গুণতে হবে বলে আশঙ্কায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছে গ্রাহকদের মাঝে।
একদিকে এলপিজি ও বাসাবাড়ির গ্যাসের এই সংকট, অন্যদিকে শিল্পকারখানায়ও নেই পর্যাপ্ত গ্যাসের সরবরাহ। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে শিল্প উৎপাদন মারাত্মক বিঘ্নিত হওয়ার প্রভাব পড়েছে উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলের শিল্পাঞ্চলগুলোতে। এর মধ্যেই গাজীপুরসহ অন্যান্য স্থানে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের অনিয়ন্ত্রিত আন্দোলনে পুরো শিল্প খাত এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
এদিকে ঢাকার রাস্তাঘাট ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অটোরিকশা, টেসলা ও হকারদের উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও তা কিছুতেই স্থায়ী রূপ পাচ্ছে না। উচ্ছেদের কিছু সময় পরেই আবারো দখল হয়ে যাচ্ছে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত, যা নিত্যদিনের যানজট ও নাগরিক ভোগান্তিকে আগের মতোই বজায় রেখেছে।
এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক অনিয়মের চিত্রও সামনে আসতে শুরু করেছে। দুমকিসহ বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে সারের ডিলারশিপ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বরাদ্দের সেই সার সীমান্ত পার করে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে (বার্মা) পাচার করে বদলে ক্ষতিকর মাদক ইয়াবা বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
সামগ্রিক এই ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে মন্তব্য করেন, “এসব নানামুখী সংকটের টেকসই সমাধান কেবল একটি নির্বাচিত সরকারই করতে পারে। দ্রুত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সকল সংকট কেটে যাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
