চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্তবর্তী একটি সড়ক একই দিনে দুইবার উদ্বোধনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সকালবেলা জামায়াতের বর্তমান সংসদ সদস্য সড়কটি উদ্বোধন করার পর, একই দিন বিকেলে ফিতা কেটে সেটির পুনরায় উদ্বোধন করেন বিএনপির পরাজিত ও সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক।
ঘটনাটি ঘটেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখের আলী বিওপি ক্যাম্প থেকে ফরিদপুর বিওপি ক্যাম্প পর্যন্ত সংযোগ সড়কে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর-এলজিইডির অধীনে ৩ কিলোমিটার ৫৫০ মিটার দীর্ঘ এই সড়কটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪০ হাজার ৫৩১ টাকা। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল জোরদার এবং পদ্মাতীরবর্তী সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করতেই এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সকালে সড়কটির নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-০৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল।
অন্যদিকে, একই দিন বিকেলে কোনো ব্যানার ছাড়াই ওই একই সড়কে ফিতা কেটে পুনরায় উদ্বোধনের কর্মসূচি পালন করেন এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুনুর রশীদ। তবে উভয়পক্ষ উদ্বোধনের দাবি তুললেও এলজিইডি জানিয়েছে, এর কোনটিই দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ছিল না এবং কাজ দুই সপ্তাহ আগেই শুরু হয়েছিল।
উদ্বোধনের সময় দুই নেতার বক্তব্যে তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়। জামায়াত এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি ৬২ হাজার ৬১৯ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ ছিনিমিনি খেললে তা প্রতিহত করা হবে। এলজিইডির কাজ আমি উদ্বোধন করব, আর আপনি (হারুনুর রশীদ) এসে ফিতা কাটবেন—এই এখতিয়ার আপনাকে কে দিয়েছে?” তবে তিনি চাইলে ভবিষ্যতে উন্নয়নের স্বার্থে তাঁর সঙ্গে থাকতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন।
এর জবাবে সাবেক এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, “এই রাস্তার বরাদ্দ ও প্রকল্প আমি নিজে নিয়ে এসেছি, আর তিনি গিয়ে তা উদ্বোধনের নাটক করছেন! এত ছ্যাচড়ামি করার কোনো দরকার নেই। বরাদ্দ আনার সুবাদে আমি সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে পরিদর্শন বা উদ্বোধন করতেই পারি।” তিনি বর্তমান এমপিকে নিজ দায়িত্বে নতুন বরাদ্দ এনে কাজ করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন।
প্রকল্পের ঠিকাদার মো সেলিম রেজা জানান, বর্তমান ও সাবেক এমপি উভয় পক্ষের উদ্বোধনী ও পরিদর্শন অনুষ্ঠানেই তিনি উপস্থিত ছিলেন। তবে এটি রাজনৈতিক রেষারেষি ছাড়া আর কিছু নয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আজহারুল ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, এটি দাপ্তরিক কোনো উদ্বোধন ছিল না, বরং দুই নেতা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। আগামী ডিসেম্বর মাসেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
