দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে প্রতারণার মাধ্যমে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং উল্টো চাঁদা দাবির অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল মিয়াকে (৪১) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) দিবাগত রাত দুইটার দিকে ঘোড়াঘাট পৌর শহর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার উজ্জ্বল মিয়া ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ছয়ঘট্টি গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাশিয়াতলা শিধলগ্রামের বাসিন্দা রিফাত কবীর বাদী হয়ে উজ্জ্বল মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিবরণে বাদী রিফাত কবীর উল্লেখ করেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি সাগরপুর মৌজায় তাঁর ৫৭ শতাংশ জমি ২২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় উজ্জ্বল মিয়ার কাছে বিক্রি করেন। চুক্তি অনুযায়ী উজ্জ্বল ১০ লাখ টাকা নগদ পরিশোধ করলেও বাকি ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিতে গড়িমসি শুরু করেন।
এরই মধ্যে রিফাতের গরুর খামারে দেওয়ার নাম করে গত ৮ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অগ্রিম ৩০ লাখ টাকা এবং ঋণ বাবদ আরও ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন উজ্জ্বল। সবমিলিয়ে বিভিন্ন উপায়ে তিনি ৪৮ লাখ টাকা নেন। তবে টাকা নেওয়ার পরও কোনো গরু সরবরাহ না করায় বাদী টাকা ফেরত চাইলে উজ্জ্বল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে গত ৮ জুন স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে সময় প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাওনার বিপরীতে উজ্জ্বল মাত্র ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেন এবং বাকি টাকা দ্রুত পরিশোধ করার একটি লিখিত অঙ্গীকার করেন।
তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তিনি আর কোনো টাকা পরিশোধ করেননি। উল্টো পাওনা টাকা চাইতে গেলে তিনি আর কোনো টাকা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন এবং রিফাতের কাছে চাঁদা হিসেবে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদলের দিনাজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, কেউ অপরাধ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় ও সাজার মুখোমুখি হতে হবে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আজ তাঁকে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
