নোয়াখালীর হাতিয়ায় জমির মালিকানাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাজারে কেনাকাটা চলা অবস্থায় দোকানিদের বের করে দিয়ে ৪টি দোকান জোরপূর্বক দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত নেতার নাম দিনাজ উদ্দিন। তিনি হাতিয়া উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনির উদ্দিনের ছেলে এবং ওই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে গত সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে সহকারী পুলিশ সুপার (হাতিয়া সার্কেল) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন। এর আগে গত রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার জাহাজমারা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে তাঁরা ব্যবসা ও ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির সমস্ত মালিকানা ও দখলসংক্রান্ত আইনি কাগজপত্র তাঁদের কাছে রয়েছে। তবে কিছুদিন ধরে দিনাজ উদ্দিন ও তাঁর বাবা জমিটি নিজেদের বলে দাবি করে আদালতে মামলা ঠুকে দেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
অভিযোগে বলা হয়, রোববার বিকেলে দিনাজ উদ্দিনের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক দোকানগুলোতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকা দোকানিদের বের করে দিয়ে দোকানে নিজস্ব তালা ঝুলিয়ে দেন। নাসির উদ্দিন ও তাঁর ভাই বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখান।
দোকানের তালা খুলে দেওয়া এবং সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মমিনুল হককে ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা দিনাজ উদ্দিন জানান, আওয়ামী লীগের সময় তাঁদের এই জমিটি দখল করা হয়েছিল। পরে তাঁরা আদালতে মামলা করলেও সরকার পতনের পর নৌবাহিনীর উপস্থিতির কারণে এত দিন দখলে যেতে পারেননি। সম্প্রতি হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও প্রতিপক্ষ কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি বলে তিনি দাবি করেন।
তবে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাহাজমারা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোমিনুল হক জানান, সরেজমিনে গিয়ে দোকানঘরে তালা দেওয়ার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আদালতের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়া কারও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি। ভুক্তভোগীদের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
