বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা। অভিশংসন প্রক্রিয়া শেষে দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা। একই সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে সাবেক প্রেসিডেন্টকে গৃহবন্দি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন সরকারি কৌঁসুলিরা।
রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত ও অভিশংসন
৫২ বছর বয়সি পেদ্রো আলিয়ানা দক্ষিণ আমেরিকার দেশ প্যারাগুয়ের ৫৩তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ২০২৩ সাল থেকে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
চলতি সপ্তাহে দেশের একটি অন্যতম বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘উয়েনো ব্যাংক’-এর আকস্মিক পতনকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয়। ব্যাংকটির কার্যক্রমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের তদারকি ঘাটতি এবং সাবেক প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এর স্বার্থের সংঘাত রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে প্যারাগুয়ের সিনেটে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ৪৫ সদস্যের মধ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তাঁকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করা হয়।
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পতন ও গ্রাহকদের দুর্ভোগ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, উয়েনো ব্যাংক আইনগত সচ্ছলতার মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ নেয় কর্তৃপক্ষ। আমানতকারীদের সুরক্ষায় অবশিষ্ট সম্পদ অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরিত করা হলেও আকস্মিক এই ধসের কারণে ব্যাংকটির প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহক—যা দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ—হঠাৎ করেই তাদের হিসাবের অর্থ ও পেনশনের টাকা ব্যবহারে সমস্যার মুখে পড়েন। দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া এই ব্যাংকটিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি পেনশন তহবিলও বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
নতুন নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ
প্যারাগুয়ের দক্ষিণাঞ্চলের সাবেক গভর্নর এবং দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য পেদ্রো আলিয়ানা দেশের এই গুরুতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেলেঙ্কারির মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিলেন। সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সুবাদে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি কোনো বিশেষ সুবিধা পেয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তদন্তে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিলেও তড়িঘড়ি করে অভিশংসন প্রক্রিয়া পরিচালনার বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তবে দেশের অস্থিতিশীলতা এড়াতেই তিনি পদ ও প্রক্রিয়া মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্টের সামনে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
