মসজিদ কমিটির নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে খুন হয়েছেন গেদা মিয়া (৬৫) নামের এক স্থানীয় প্রবীণ বিএনপি নেতা ও সালিশি ব্যক্তিত্ব। এই সহিংস সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার তেতলি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত গেদা মিয়া তেতলি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন এবং এলাকায় মুরব্বি হিসেবে সালিশ-দরবারে তার যথেষ্ট প্রভাব ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকার একটি মসজিদ কমিটির আধিপত্য বিস্তার ও পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গেদা মিয়ার পরিবারের সঙ্গে প্রতিপক্ষ আলাউদ্দিন ও ইলিয়াস গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন ও ইলিয়াসের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী গেদা মিয়া ও তার ছেলে বাবুলের বাড়িতে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাড়িতে হামলার প্রতিবাদ করতে গেলে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে গেদা মিয়ার ওপর চড়াও হয় এবং তাকে লক্ষ্য করে ১৫ থেকে ২০টি উপুর্যুপুরি কোপ দেয়। ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও স্থানীয় তেতলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউর রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মামলার প্রস্তুতি চলছে।
