জামালপুর সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিককে প্রকাশ্যে গালাগাল ও গুরুতর সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শাস্তিমূলক ব্যবস্থার শিকার হওয়া ওই নেতার নাম অনিক, যিনি এতদিন জামালপুর সদর উপজেলা পূর্ব শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর পরিবর্তে ওই কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. কাওসার আলমকে নতুন ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) রাতে জামালপুর জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মীর সোহান আহমেদ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আতিকুর রহমান সুমিল ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম শফিক যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন এবং গণমাধ্যমের কাছে তা নিশ্চিতও করেছেন।
সংগঠন থেকে অব্যাহতির বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অভিযুক্ত অনিক পুরো ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও বিরোধকে দায়ী করেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, গত ২ নভেম্বর সদর উপজেলার ইটাইল ইউনিয়নের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তাঁকে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হলেও আয়োজকরা তাঁকে মঞ্চে আসন দেননি।
অনিকের দাবি, অনুষ্ঠানস্থলের মূল দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শফিক। গত ৫ নভেম্বর বিকেলে এ বিষয়ে শফিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি ক্ষুব্ধ হন এবং এর জেরে ঘটনার পাঁচ দিন পর তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ছাত্রদল নেতার এমন অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন যুবদল নেতা শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি স্পষ্ট করে জানান, একটি অভ্যন্তরীণ ও অরাজনৈতিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে অনিক প্রকাশ্য রাস্তায় তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেছিলেন। সিনিয়র নেতার সঙ্গে এমন বেয়াদবির কারণে দল কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মন্তব্য করে শফিক বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে ক্ষমা করে দিয়েছিলাম, তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়টি জেলা নেতৃত্ব সহজভাবে নেয়নি। তাই কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’







