ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক প্রস্তুতি ও তৎপরতা চালাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সব আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে, তাদের নিয়ে একাধিক কর্মশালাও সম্পন্ন করেছে দলটি। নির্বাচনি ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
দলের সূত্র বলছে, বিশেষজ্ঞদের মতামত ও বিভিন্ন মহলের পরামর্শ নিয়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে একটি জনবান্ধব ও সময়োপযোগী ইশতেহার। এতে থাকবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত, মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি। দলটি জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের অনুমোদন শেষে তফসিল ঘোষণার পরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। বিভিন্ন ইসলামি ও সমমনা রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠনের উদ্যোগও চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। পাশাপাশি ‘জুলাই সনদের’ আইনি ভিত্তি, সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ, এবং আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক (PR) ভোট পদ্ধতির দাবি জানিয়ে রাজপথেও সক্রিয় রয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন জানান, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইশতেহারে থাকবে ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন রাষ্ট্র নির্মাণের অঙ্গীকার। সব নাগরিকের সমান অধিকার, কর্মসংস্থান, ঘুষ ও দুর্নীতির অবসান, নারী শিক্ষার সমান সুযোগসহ নানা বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতিদমন কমিশনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ খাতে কীভাবে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়, তা ইশতেহারে তুলে ধরা হবে।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বিভিন্ন জনসভায় ইশতেহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে চাই, যেখানে বৈষম্য থাকবে না, সবাই সমান মর্যাদার নাগরিক হিসেবে থাকবে। আমরা মদিনার ছায়ার আলোকেই বাংলাদেশে খেলাফত দেখতে চাই।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, জামায়াতের নির্বাচিত কোনো এমপি-মন্ত্রী সরকারি প্লট নেবেন না, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ব্যবহার করবেন না, বরং সরকারি অর্থ ব্যবহারে জনগণের কাছে জবাবদিহি করবেন।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, “নতুন বাংলাদেশ গঠনে বাস্তব পরিকল্পনা ও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ইশতেহার সাজানো হচ্ছে। প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সময়কাল উল্লেখ করেও ডেডলাইন নির্ধারণ করা হবে।”
আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “খসড়া প্রস্তুতের জন্য একটি কমিটি কাজ করছে। চূড়ান্ত ইশতেহার হবে শীর্ষ নেতাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।”







