বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ইসলাম সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতির মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে রাষ্ট্রে সকল নাগরিক—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে—নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে বসবাস করতে পারে। জামায়াতে ইসলামী এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায়, যার ভিত্তি হবে কুরআন ও সুন্নাহ।
শনিবার বিকেলে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর ও রংপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে ইসলামের সুশাসন ছিল বলেই তা ছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ। কিন্তু স্বাধীনতার পর ৫৪ বছরে রাষ্ট্রে ইসলামী মূল্যবোধ অনুপস্থিত থাকার ফলে অনেকেই সমান অধিকার ও নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, শিকার হয়েছেন নির্যাতনের। এখন সময় এসেছে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনের—যেখানে থাকবে না কোনো জুলুম, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা সাম্প্রদায়িক বিভাজন।”
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “আপনারা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে নিরাপদে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। জামায়াতের নেতাকর্মীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অপশক্তি আপনাদের ধর্মীয় উৎসবে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে। অতীতেও আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, এখনো আছি, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবো।”
এই সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মুন্সী মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, যুবনেতা মোস্তফা আল মুজাহিদ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ডা. হরিদাস মন্ডল, অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল, অনিমেষ বিশ্বাস, কমলেশ বিশ্বাসসহ অনেকে।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় গোলাম পরওয়ার পূজা আয়োজন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা সবাই একসঙ্গে এই দেশকে ভালোবাসি। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের একে অপরের পাশে থাকা উচিত। কেউ যদি এই সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়, আমরা তা রুখে দেব।”
তিনি আরও বলেন, “হিন্দু-মুসলমান শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বাংলাদেশে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে—এমন উদাহরণ বিশ্বের খুব কম দেশেই আছে। দাঙ্গা-হাঙ্গামার জন্য একটি বিশেষ গোষ্ঠী সক্রিয় হয়েছে—আপনারা সজাগ থাকবেন। আমরা চাই, কেউ যেন আমাদের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করতে না পারে।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়, মন্দির ও বসতবাড়ির নিরাপত্তার বিষয়েও তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “এই দেশ আপনাদের, আমাদের সবার। জামায়াতে ইসলামী বিশ্বাস করে, সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্যে হিন্দু সমাজের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
শেষে গোলাম পরওয়ার বলেন, “বাংলাদেশের রয়েছে ধর্মীয় সম্প্রীতির গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘুর ভেদাভেদ না রেখে, সবার ধর্মীয় অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনে হিন্দু-মুসলমান একসঙ্গে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছে। জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মীরা তখন মন্দির পাহারা দিয়ে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটাই আমাদের পথ—এগিয়ে চলার পথ।”







