জাতিসংঘের সামনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার চেষ্টা করতে বিভিন্ন দেশ থেকে নেতাকর্মী জড়ো করে নিউইয়র্কে অবস্থান করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা নিঝুম মজুমদার।
কিন্তু উল্টো তিনি এখন মামলার আসামি হয়ে নিউইয়র্কে আত্মগোপনে রয়েছেন। আওয়ামী বুদ্ধিজীবী মহলে ‘হারপিক মজুমদার’ নামে পরিচিত এই নেতা ঘন ঘন ঠিকানা পরিবর্তন করে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এবং প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নিঝুম মজুমদার অজ্ঞাত স্থানে নিজের পছন্দের কয়েকজন সাংবাদিককে নিয়ে বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা সম্ভব কেবল শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে।
সূত্র জানায়, জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশন ঘিরে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়। শেখ হাসিনা ভারত থেকে ফোনে নেতাকর্মীদের ইউনূস ও তার সফরসঙ্গীদের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নির্দেশ দেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও ফোনে যোগাযোগ করে অর্থ সহায়তা দেন।
এই নির্দেশনার অংশ হিসেবেই নিঝুম মজুমদার ম্যানহাটনের একটি হোটেলে অবস্থান করে হামলার পরিকল্পনা করেন। ২৫ সেপ্টেম্বর গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে প্রধান উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থানকালে হামলার সময় সরাসরি নেতৃত্ব দিতেও তাকে দেখা যায়।
ঘটনার পর এনসিপি নেতা আখতার হোসেন বাদী হয়ে নিউইয়র্কে মামলা দায়ের করেন এবং ভিডিও ফুটেজসহ প্রমাণাদি মার্কিন কর্তৃপক্ষকে দেন। এরপর থেকে নিঝুম মজুমদার আত্মগোপনে চলে যান।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা টানা কয়েকদিন নিউইয়র্কে সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে এবং তাদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাপক জনসমাগমের কারণে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের সামনে আওয়ামী লীগের সমাবেশ ব্যর্থ হয়।
আওয়ামী লীগেরই একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দলীয় প্রচারপত্র বিতরণের পরিকল্পনা থাকলেও নিঝুম মজুমদার শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসতে পারেননি।
জাতিসংঘের বাইরে এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে লাখো হিন্দু ভারতে পালিয়ে গেছেন।
চেষ্টা করেছিলেন ড. ইউনূসকে হেনস্তা করার, কিন্তু এখন নিজেই আইনি জটিলতায় পড়ে লুকিয়ে বেড়াচ্ছেন নিঝুম মজুমদার।







